এই দশ খাবারের জুড়ি মেলা ভার! রোজ পাতে রাখলেই দুর্দান্ত থাকবে হার্ট
হার্ট অ্যাটাক তো আর বলে কয়ে আসে না। তবে সময় থাকতে থাকতে সতর্ক হওয়া দরকার। আর সবার আগে যেটা প্রয়োজন সেটা হল খাদ্যতালিকায় বদল আনা। বেশ কিছু খাবার রোজ পাতে রাখতে পারলেই হার্টের অসুখকে অনেকটাই বশে রাখা সম্ভব। দিনের প্রতিটা খাবার এমন হতে হবে যাতে হৃদপিণ্ডের সুরক্ষার পাশাপাশি উচ্চ রক্তচাপ, কোলেস্টেরল ও ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে। খাদ্যাভ্যাস ঠিকমত করতে পারলেই হৃদরোগে আক্রান্ত হওযার ঝুঁকি কমবে।
এখন প্রশ্ন হল, কোন কোন খাবার হার্টের জন্য খুব উপকারী?
১) ছোলা: ছোলাতে আছে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার এবং পটাসিয়াম। ছোলা কোলেস্টেরলের মাত্রা হ্রাস করতে সহায়তা করে। শুধুমাত্র তাই নয়, এটি হৃদরোগের ঝুঁকিও হ্রাস করে।
২) কফি: ব্ল্যাক কফি আপনি খেতে ভালোবাসুন বা নাই পছন্দ করুন, এই তেতো ব্ল্যাক কফি কিন্তু আমাদের হার্টের জন্য খুব উপকারী। কফি করোনারি হার্ট ডিজিজ, হার্ট ফেইলিওর এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি হ্রাস করতে সাহায্য করে।
৩) গ্রিন টি: গ্রিন টির উপকারীতা অনেক। গ্রিন টিতে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে যা আর্টারি ভালো রাখতে সহায়তা করে। এছাড়াও গ্রিন টি কমিয়ে দেয় এলএল, কোলেস্টেরল এবং ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা।
৪) ফ্ল্যাক্স সিড: ফ্ল্যাক্স সিডে আছে প্রচুর পরিমাণে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড। চিকিৎসকের সাথে পরামর্শ করে প্রয়োজন মত ফ্ল্যাক্স সিড খাওয়া উচিত। এতে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ইস্ট্রোজেন থাকে। প্রচুর পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ এই সিডগুলো হার্টের সুরক্ষা প্রদান করে।
৫) কিডনি বিনস: কিডনি বিনস্ বা রাজমা ফোলেট, ম্যাগনেসিয়াম এবং প্রোটিনযুক্ত। কিডনি বিনস্ বা রাজমায় ফ্যাট অনেকটাই কম তবে ফাইবার খুব বেশি। রাজমা হোমোস্টিনের স্তর হ্রাস করতে এবং হৃদরোগ, ঝুঁকি কমাতে অনেকটাই সাহায্য করে।
৬) আদা: হার্ট ভালো রাখতে আদার জুড়ি মেলা ভার। গন্ধযুক্ত এই মশলাটি নিয়মিত খেলে করোনারি হার্ট ডিজিজের মতো হৃদরোগের ঝুঁকি কমে যায় অনেকটাই।
৭) ডুমুর: ডুমুর হার্ট সুরক্ষিত করার জন্য পুষ্টির অন্যতম সেরা উৎস। এই ফলটিতে আছে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম এবং ফাইবার। এটি হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনা অনেকটাই কমিয়ে দেয়।
৮) আপেল: আপেলে পেকটিন থাকে। এটি কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে এবং এটির কারণেই ধমনীতে প্লাক জমতে পারে না। প্রতিদিন ব্রেকফাস্টে একটা করে আপেল খাওয়া এবং ওটমিলে আপেলের টুকরো যোগ করলে হার্টের অবস্থার উন্নতি হতে পারে।
৯) গোটা শস্য: গোটা শস্যে প্রচুর পরিমাণে ডায়েটারি ফাইবার থাকে যা রক্তে শর্করা এবং কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। খাবারে মিহি শস্যের পরিবর্তে গোটা শস্য খেলে হৃদরোগের সম্ভাবনা কমে যায়।
১০) গাজর: গাজরে থাকে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার, বিটা-ক্যারোটিন এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এটি কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে এবং হৃদপিণ্ডের ওপর অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমানোর ক্ষেত্রে সহায়ক হয়।
একটা কথা মাথায় রাখবেন, হার্ট ভালো রাখার বিকল্প নেই। একবার এই যন্ত্রটা কাজ বন্ধ করলেই আপনার ঠিকানা হবে পরপারে। শুধু বয়স্কদের ক্ষেত্রেই নয়, সব বয়সীদেরই হার্টের প্রতি যত্নশীল হওয়া প্রয়োজন। হৃদরোগের কারণে প্রতি বছর মৃত্যুর ঘটনা কম নয়। তাই আপনাকেই আপনার হার্টের যত্ন নিতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে হেলদি লাইফস্টাইলের পাশাপাশি উপযুক্ত ডায়েটের বিষয়েও।




